banner image

প্রেম এবং জীবন (রোমান্টিক গল্প)

১. ‘তোমাকে বার বার বলছি, আগে একটা চাকরি জোগাড় করো, তারপর বিয়ের চিন্তা।’

‘মা, আমি জানি, চাকরি পাবার আগে বিয়ে করাটা শুধু আমার জন্য নয়, কারো জন্যই ঠিক নয়। কিন্তু...’

‘কোনো কিন্তু নয়। তুমি নিশ্চয়ই এই প্রবাদ জানো, ‘অভাব যখন দরজায় কড়া নাড়ে, ভালোবাসা তখন জানালা দিয়ে পালায়’। তবু তুমি কোন সাহসে এখন বিয়ের কথা বলছো?’

‘বলছি, কারণ কাল না হয় পরশু আমি হয়তো একটা ভালো চাকরি পাবো। কিন্তু জেরিনের মতো একটা পছন্দসই মেয়ে পাবো না।’

‘তুমি তো দেখছি নাছোড়বান্দা। তাহলে আরেকটা প্রবাদের কথা স্মরণ করো, ‘স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন’।’

২.

‘কতদিন আর অপেক্ষা করবো? সেই ইন্টারমিডিয়েটে পড়ার সময় আমাদের পরিচয় এবং সম্পর্ক। কিন্তু আমরা এখনো বিয়ে করতে পারিনি। আজকালকার ছেলেমেয়েরা...’ -জেরিন বললো।

‘আজকালকার ছেলেমেয়েরা সম্পর্কের দু’একবছরের মধ্যেই বিয়ে করে ফেলে। এটাই তো বলতে চাইছো। কিন্তু পরিণতিতে কী হয়?’

‘যাদের বাবার পর্যাপ্ত টাকা আছে, তাদের তেমন কোনো সমস্যা হয় না, কিন্তু যাদের বাবার বেশি টাকাপয়সা নেই, নিজেও সহজে কোনো আয়ের পথ বের করতে পারে না, তাদের অনেকের বিয়ে বেশি দিন টেকে না। এটাই তো তোমার বক্তব্য, তাই না? কিন্তু এখন তো তোমার পড়ালেখা শেষ, চাকরির জন্যও চেষ্টা করে যাচ্ছো, একটা ভালো চাকরিও হয়তো পেয়ে যাবে যে কোনো সময়। এখন আমাদের বিয়ে করতে...’

‘তোমার বাবার টাকা আছে। তুমি কখনো কোনো চাকরি পাবার চেষ্টাও করোনি। তাই জানো না, এদেশে চাকরি পাওয়া যে কতো কঠিন। এদেশে একটা চাকরি খুঁজতে খুঁজতে অনেকে চাকরি করার যোগ্যতাও হারিয়ে ফেলে!’

‘কিভাবে?’

‘অনেকে চাকরি খুঁজতে খুঁজতে একসময় তার চাকরিতে আবেদনের বয়সটাই শেষ হয়ে যায়। আর আবেদনই করতে পারেনা। এটা কি চাকরি করার যোগ্যতা শেষ হয়ে যাওয়া নয়?’

‘তবু আমি আশাবাদী, তুমি একটা চাকরি খুব শীঘ্রই পেয়ে যাবে। জানো না, প্রায় প্রতিদিনই এখন আমাদের বাসায় মানুষ ভীড় করে আমার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে। এতোদিন আমার বাবা আমার কথামতো মানুষকে এই বলে বিদায় করতেন, আমার মেয়ে আগে মাস্টার্স শেষ করুক, এরপর ওর বিয়ে নিয়ে চিন্তা করবো। কিন্তু এখন...’

৩.

‘দেখোতো কে এসেছে?’

‘স্লাামুআলাইকুম। আমি শিহাব। বাসা মিরপুর। আর, ও আমার স্ত্রী মারুফা।’

‘তো হঠাৎ কী মনে করে?’

‘আপনার মেয়ে জেরিনের সাথে আমার ছেলের বিয়ের ব্যাপারে কথা বলতে এসেছি।’

‘কী করে আপনার ছেলে?’

‘সোনালী ব্যাংকের অফিসার হিসেবে জয়েন করেছে বছর খানেক আগে।’

‘আমার মেয়ের কথা কী করে জানলেন?’

‘আপনার স্বামী কি আপনাকে কখনো মারুফা নামে কোনো মেয়ের সাথে ওর সম্পর্কের কথা বলেছে?’

‘তাহলে ইনিই কি সেই মারুফা? আমরা অনেক ফ্রী। আমার স্বামী আমাকে বিয়ের আগে ওর সব সম্পর্কে কথা বলেছে। বিশেষ করে মারুফার সাথে ওর সম্পর্কের কথা এবং মরুফাকে বিয়ে না করতে পারার কথা।...’

‘জেরিন, দেখোতো কে এসেছে?’

‘মারুফা, তুমি?’

‘হ্যাঁ, আমি। অনেক বছর পর আমাদের দেখা।’

‘তো কিভাবে চিনলে আমাদের বাসা?’

‘আমার ভাই তোমাকে তখন থেকেই চিনতো। সে-ই তোমার কথা মাঝে মাঝে আমাকে বলে। ওর অফিস নাকি তোমাদের অফিসের কাছেই। কিছু দিন আগে আমাদের ছেলের বিয়ের কথা উঠতেই ও বললো তোমার মেয়ে জেরিনের কথা। তোমার সাথে মাঝে মাঝে ও তোমার মেয়ে জেরিনকে দেখেছে।’

‘আসলে মানুষের জীবনটাই এমন। কখন কোন দিকে মোড় নেয়, কেউ জানে না। আমাদের বিয়ে হয়নি তোমার বাবার কারণে। তোমার বাবা চায়নি বেশ উঁচু পরিবারে তোমার বিয়ে হোক। কিন্তু শেষে উঁচু পরিবারেই তোমাকে বিয়ে দিতে হলো। কিছু করার নেই। যাহোক তুমি এখন যে জন্য এসেছো, আমি জেরিনের সাথে কথা বলে তোমাকে জানাবো দু’দিনের মধ্যে।’

৪.

‘আমি কখনোই তোমার কথা আমার বাবা-মা কাউকে বলিনি। কারণ আমি চেয়েছি আগে তোমার একটা ভালো চাকরি হোক, তারপর তোমাকে সাথে করে আমাদের বাসায় নিয়েই আমাদের সম্পর্কের কথা সবাইকে জানাবো। একটা সারপ্রাইজের মতো হবে। কিন্তু এখন কোথা থেকে কী হয়ে যাচ্ছে? আরিফ, আমার মনে হয়, আমার বিয়ের এই প্রস্তাবটা আমার বাবা কোনোভাবেই নাকচ করবেন না। আমি তোমাকে ছাড়া অন্য কারো সাথে এক জীবন কিভাবে কাটাবো, ভাবতেই আমার মাথা ঘুরে যায়।’

আরিফ হতাশায় শুয়ে পড়ে ঘাসের উপর। জেরিন কাঁদতে থাকে ডুকরে ডুকরে। ওর কানে বাজতে থাকে শুধু একটি কালজয়ী গান, ‘ভালোবাসলেই সবার সাথে ঘর বাঁধা যায় না’। [https://www.youtube.com/watch?v=vFUTG_kk-VQ]

ওদের মনে পড়ে যায়, কিছু স্মৃতি। প্রথম দেখার স্মৃতি।

একটু পর ফোন আসে আরিফের।

‘মা, কেন ফোন করেছো?’

‘তোমাকে বিষন্ন মনে হচ্ছে কেন? কাঁদছো নাকি?’

‘কই নাতো!’

‘তাড়াতাড়ি বাসায় আসো।’

আরিফ জেরিনকে নিয়েই বাসায় আসে।

‘এই হচ্ছে জেরিন, যাকে আমি ইন্টামিডিয়েটে পড়ার সময় থেকেই ভালোবাসছি। কিন্তু...’ আরিফের চোখে পানি।

‘কিন্তু কী?’

‘কিন্তু এখন অন্য একটি ছেলের সাথে ওর বিয়ের কথা পাকাপাকি হয়ে যাচ্ছে।’

‘কী করবে, তোমার বাবার পেনশনের টাকায় আমাদের সংসার চলছে। আজ তোমার একটি ভালো চাকরি হতো, তোমাকে আমি নিজে নিয়ে যেতাম ওর বাবার কাছে। আমার মনে হয় আমার কথা উনি ফেলে দিতেন না। কিন্তু কী আর করবে! কপালে যদি লেখা না থাকে...।’

৫.

‘তোমার ছেলে তো দেখছি বেশ স্মার্ট। আমাদের জেরিনের সাথে খুব মানাবে।’ - জেরিনের বাবা।

‘একটা বিষয় আগে থেকে জেনে নেয়া ভালো।’ - মারুফা বললেন।

‘নিশ্চিন্তে জিজ্ঞেস করতে পারেন।’

‘জেরিন কি কোনো ছেলেকে ভালোবাসে?’

প্রশ্নটি শুনে জেরিন কিছু বলবে বলবে বলেও বলতে পারে না।

‘কই কখনো তো বলেনি। আর তোমার ছেলে কি কাউকে পছন্দ করে?’

‘খুশি হলাম আমাকেও এমন প্রশ্ন করায়। আমার ছেলে কলেজ-জীবনে একটা মেয়েকে বেশ পছন্দ করতো। কিন্তু যখন-ই ওকে নিজের ভালোলাগার কথা বলেছে, তখন মেয়েটি সবিনয়ে জানিয়ে দিয়েছে, ওর সাথে নাকি একটা ছেলের সম্পর্ক আছে। পরে ওই ছেলের সাথেই মেয়েটির বিয়ে হয়েছে। মেয়েটির কাছে প্রত্যাখ্যাত হবার পর আমার ছেলে আর কোনো মেয়েকে আগে থেকে পছন্দ করার চেষ্টা করেনি। নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ভেবেছে এবং ওর বিয়েকে ছেড়ে দিয়েছে আমাদের পছন্দের ওপর।’

৬.

‘হ্যালো, আরিফ, তোমার সাথে আমার জরুরি কথা আছে। রেস্টুরেন্টে আসতে পারবে?’

[রেস্টুরেন্টে]

‘কী জন্যে ডেকেছো? সিরিয়াস কিছু?’

‘সিরিয়াস কিছু হবার সময় কি এখনো হয়নি? আমার বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়ে গেছে। কী করা উচিত আমি কিছু বুঝতে পারছি না।’

ওরা কিছুক্ষণ কান্নাকাটি করলো। এরপর একটু আস্তে আস্তে কোনো একটা যুক্তি করলো।

দু’জন রিকশায় করে একটো ক্যামিকেলের দোকানে গেল। জেরিন রিকশার ওপর বসে রইলো আর আরিফ দোকনদারের নিকট ইঁদুর মারার ঔষধ চাইল।

‘আপনার কাছে কি ইঁদুর মারার ঔষধ আছে?’

‘আছে। কিন্তু আপনি তা দিয়ে কী করবেন?’

‘ইঁদুর মারার ঔষধ দিয়ে যা করা হয়, তা-ই করবো। কী, কোনো সন্দেহ আছে?’

‘না। মানে আপনাকে দেখে মনে হয়, আপনি ইঁদুর মারার ঔষধ অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করতে পারেন।’

‘এমন ভাবার কোনো কারণে নেই। আপনি নিশ্চিন্তে দিতে পারেন।’

৭.

আরিফ এবং জেরিন একটু দূরে চলে যেতেই ঐ দোকানদার তার পাশের দোকানদারকে ছেলেটির প্রতি ইঙ্গিত করে বললো, ‘ছেলেটিকে পরিচিত পরিচিত মনে হয়। ওকে কি চেনেন?’

‘না। কিন্তু কেন?’

‘আমি ওকে চিনি। ওর বাবার সাথে আমার বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ওর বাবা বেঁচে থাকতে ওদের বাসায় মাঝে মাঝে যাওয়া হতো। এখন তেমন একটা যাওয়া হয় না।’ ঐ দোকানে কোনো পণ্য ক্রয় করতে আসা মধ্যবয়সী এক ভদ্রলোক বললেন।

একটু দম ফেলে আবার বললেন, ‘কেন, কী সমস্যা?’

‘ছেলেটি ইঁদুর মারার ঔষধ কিনে নিয়েছে। সাথে একটা মেয়েও ছিল। মনে হয় অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে।’

৮.

‘এই তোমরা এখানে এই পরিত্যক্ত ঘরে কী জন্যে এসেছো?’

‘আঙ্কেল, আপনি? প্লীজ আমাদেরকে এখন ডিস্টার্ব করবেন না।’

‘তোমাদের সাথে আমার জরুরী কথা আছে। একটু বাইরে এসো।’

ওরা রাজি হলো।

‘আমি বুঝতে পেরেছি, তোমরা এখানে ইঁদুর মারার ঔষধ খেয়ে আত্মহত্যা করার জন্যই এসেছো। কিন্তু কেন?’

ওরা খুলে বললো ওদের কথা। পরে বললো, ‘একসাথে যখন জীবন যাপন করতে পারবো না, তখন একসাথে মরে যাওয়াই ভালো।’

‘তোমরা কি দৈনিক পত্রিকা পড়ো?’

‘আগে পড়তাম। এখন পড়া হয় না। কেন?’ -আরিফ বললো।

‘কখনো কি ‘একই রশিতে প্রেমিক-প্রেমিকার আত্মহত্যা!’ -এরকম কোনো সংবাদ পড়েছো?’

‘এমন সংবাদ মাঝে মাঝে ছাপা হতে দেখেছি। এখনো ফেসবুকে এমন সংবাদের লিঙ্ক পাই মাঝে মাঝে।’

‘দেখো, যারা বিয়ে করতে পারেনি বলে এভাবে আত্মহত্যা করে মারা গেছে, তারা কী পেয়েছে? মনের মানুষকে তো পায়ইনি, নিজের জীবনটাকেও নিজেই শেষ করে দিয়েছে। দেখো, মনের মানুষকে বিয়ে করলেই যে সবাই সুখী হয়ে যায়, এমনটা কখনোই নয়। অসংখ্য সম্পর্কের বিয়ে ভেঙ্গেও যায়। প্রেমের সম্পর্কটা বিয়ের আগে যেমন মধুর থাকে, বিয়ের পর তেমন মধুর থাকে না অনেক ক্ষেত্রে। তাই প্রেম মানেই জীবন নয়। বিয়ে ছাড়াই অনেকে একটা জীবন কাটিয়ে দেয় অনেক কারণে। জীবনে বিয়ে ছাড়া আনন্দের অনেক কিছুই আছে। তাই বলে তোমাদেরকে বিয়ে করতে নিষেধ করছি না। বলছি, মনের মানুষকে পেলেই যে জীবন সার্থক হয়ে যাবে, এমন কোনো কথা নেই।’

‘তাহলে আমরা কী করবো?’

‘বেঁচে থাকো। শুধু বেঁচে থাকার মধ্যেই অনেক আনন্দ আছে। পৃথিবীতে প্রায় সব মানুষের জীবনে প্রেম আসে। কিন্তু সব প্রেম কি বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়? তুমি যাকে ভালোবাসছ, যদি কোনো বড় বাধার কারণে তাকে বিয়ে করতে না পারো, তাহলে তোমার কি বিয়ের পিঁড়িতে বসার আর কোনো সুযোগ থাকবে না? তোমাদের ভালোবাসা কি নষ্ট হয়ে যাবে? ভালোবাসা মানেই কি বিয়ে? ভালোবাসা ছাড়া কি বিয়ে বা ভালো মেয়ে পাবার আর কোনো উপায় নেই? অচেনা কাউকে বিয়ে করলে সে কি তোমাকে ভালোবাসা দেবে না?’

আরিফ এবং জেরিন অনেকক্ষণ ভাবতে থাকে। তাদের কানে লোকটির শেষ কথাগুলো বার বার বাজতে থাকে। একসময় আরিফ বলে, ‘আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনি শুধু আমাদের জীবন বাঁচাননি, আমাদেরকে জীবনের অর্থও বুঝতে সহায়তা করেছেন।’

জেরিন বলে, ‘আমার বাবা যাকে ভালোবাসতেন, তাঁর সাথেও ওর বিয়ে হয়নি। তাই বলে আমার বাবা তো বেশ অসুখী জীবন যাপন করছেন না!’

‘হ্যাঁ জেরিন, আমরা মরে না গিয়ে বেঁচে থাকি একে অপরের বন্ধু হয়ে। শৈশবের অনেক অন্তরঙ্গ বন্ধুকেও তো অনেকে পরিণত বয়সে হারিয়ে ফেলে। আমি ভেবে নেবো তুমি আমার হারিয়ে যাওয়া শৈশবের এক বন্ধু।’

‘আমিও।’ উভয়ের চোখে জল ছলছল। একসময় উভয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকে।

৯.

২ মাস পর...

আরিফের কাছে একটি ফোন আসে।

‘আরিফ, গতকাল তুমি যে ইন্টারভিউ দিয়েছ, সেখানে প্রথম হয়েছো। আগামী দশ দিনের মধ্যে তুমি আমাদের কোম্পনীতে জয়েন করো।’

আরিফ বাসার বাইরে ছিল। বাসায় আসার সময় মিষ্টি নিয়ে এলো। ওর মা অনেক খুশি। বললেন, ‘এবার তাহলে আমার ঘরে নববধু আসা সময়ের ব্যাপার মাত্র।’

১০.

জেরিনের মোবাইলে একটি মেসেজ আসার শব্দ হলো। ওর স্বামী ফরহাদ মোবাইল হাতে নিয়ে দেখলো, আরিফ নামে একজন মেসেজ পাঠিয়েছে, ‘আমার চাকরি হয়েছে।’ ফরহাদ জেরিনকে ডেকে বললো, ‘আরিফ নামে কাউকে চেনো?’ জেরিন বললো, ‘কেন, কী হয়েছে?’

‘ও তোমাকে একটি মেসেজ পাঠিয়েছে। দেখো।’

মেসেজটি দেখার পর জেরিন ফরহাদকে আরিফের সম্পর্কে সংক্ষেপে বললো। শেষে আরিফ বললো, ‘আমিও তো যাকে ভালোবেসেছি, তাকে পাইনি। তাই বলে আমার জীবন কি শেষ হয়ে গেছে? বরং আমি মনে করি, যাকে ভালোবেসেছি ছাত্রজীবনে, তার চেয়ে অনেক ভালো একজনকে পেয়েছি এখন। কেন জানো?’

জেরিন প্রশ্নসূচক মাথা নাড়ালো।

আরিফ বললো, ‘তখন আমি ছাত্র ছিলাম। আমাকে পছন্দ করার বড় একটা উপলক্ষের অভাব ছিল। আর এখন আমি নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি। আমাকে অপছন্দ করার তেমন কিছুই নেই।’

‘তাই নাকি!’ বলে জেরিন ফরহাদের গাল টেনে দিল।

‘এবার আরিফকে ফোন করে অভিনন্দন জানাও আর জিজ্ঞেস করো, ওর কী চাকরি হয়েছে?’

ফোন শেষে জেরিন বললো, ‘একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে অফিসার পদে ওর চাকরি হয়েছে। ভালো বেতন, প্রচুর সুযোগ-সুবিধা।’

‘ওর সাথে আমি আমার বোনের বিয়ে দেবো। আমার কথা আমার বাবা-মা এবং বোন কেউ ফেলবে না আশা করি। তুমি কী বলো?’

‘তোমার বোন তো আমার চেয়েও স্মার্ট!’

‘নিশাত, একটু এদিকে আয়।’

‘কী ভাইয়া, কিছু বলবে?’

‘তোমার ব্যক্তিগত একটা বিষয় জানতে চাইবো।’

নিশাত হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ালো।

‘পড়াশুনা তো শেষ। বিয়ে নিয়ে কি কিছু ভেবেছো?’

নিশাত যেন লজ্জা পেল। কিছু বললো না। তবে না সূচক মাথা নাড়ালো।

‘কোনো পছন্দ আছে?’

‘ভাইয়া, কলেজ লাইফে অনেক ছেলেমেয়েকে দেখতাম অনেকের সাথে সম্পর্ক করছে। দেখতাম, অনেকের সম্পর্ক ভেঙ্গেও যাচ্ছে। অনেক সম্পর্ক থেকে নানা রকম দ্বন্দও সৃষ্টি হতে দেখেছি। শেষে যখন তোমার একটা বিষয় জানতে পারি, তখন নিজেকে এসব থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখার চেষ্টা করি।’

‘আমার বিষয়?’

‘তুমি একসময় একটি মেয়েকে নিজের ভালোলাগার কথা বলার পর মেয়েটি ওর সাথে অন্য একটা ছেলের সম্পর্ক থাকার কথা বলার বিষয়টা তুমি তো তখনই আমাকে বলেছিলে। তুমি এটাও বলেছিলে, মানুষ তো প্রেম করে বিয়ে করারই জন্য। আগে প্রতিষ্ঠিত হই, আরো ভালো মেয়ে আমার ভাগ্যে জুটতে পারে।’ নাবিলা বললো। একটু থেমে বললো, ‘তোমার এই ধারণাটি আমার মনেও রেখাপাত করেছিল। এজন্য অনেক ছেলের প্রস্তাবও আমি ফিরিয়ে দিয়েছি। বলেছি, আগে পড়াশুনা শেষ হোক।’

‘পড়াশুনা তো শেষ। এখন আমি যদি একটা ছেলের কথা বলি, তুমি কি আমার প্রস্তাবও ফিরিয়ে দেবে?’

নিশাত কিছু না বলে তার রুমের দিকে দৌড়ে চলে গেল। ওর মুখ ছিল লজ্জামাখা।

৩ দিন পর জেরিনের শ্বশুরালয়ে আরিফকে দেখা গেল খুশিমনে নিশাতের হাতে আংটি পরাচ্ছে। সাথে দুই পরিবারের সবাই। বাজছে রবি চৌধুরীর একটি গান: ‘ভালোবাসা বহুরূপী...’ [https://www.youtube.com/watch?v=-Nl-Hmo-QHE]


১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

[সতর্কীকরণ:

লেখকের অনুমতি ছাড়া গল্পটি কোনো নাটকে বা অন্য কোথাও ব্যবহার করা যাবে না। লেখকের ফেসবুক: https://www.facebook.com/nurahmad.teacher]


প্রেম এবং জীবন (রোমান্টিক গল্প) প্রেম এবং জীবন (রোমান্টিক গল্প) Reviewed by Nur Ahmad on August 16, 2020 Rating: 5

No comments:

Contact Us

Name Email * Message *

Powered by Blogger.